Let's Stop Child Marriage

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, 2012


 

(2012 সনের 40 নং আইন)

ঢাকা, 24 সেপ্টেম্বর, 2012/09 আশ্বিন


 

সংসদ কর্তৃক গৃহীত নিম্নলিখিত আইনটি 24 সেপ্টেম্বর, 2012/09 আশ্বিন, 1419 তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করিয়াছে এবং এতদ্বারা এই আইনটি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা যাইতেছেঃ-

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রীয় বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার লক্ষ্যে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন সম্পর্কিত বিধানাবলী প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রনীত আইন

যেহেতু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রীয় বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার লক্ষ্যে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন সম্প্রর্কিত বিধানাবলী প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

যেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ

1। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন।– (1) এই আইন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, 2012 নামে অভিহিত হইবে।

(2) ইহা নাগরিকত্ব নির্বিশেষে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল হিন্দু ধর্মালম্বীর জন্য প্রযোজ্য হইবে। সংঙ্গা ।- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্তী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(3) সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কাযকর হইবে।

(ক) ‘‘হিন্দু’’ অর্থ বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন নাগরিক;

(খ) ‘‘হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক’’ অর্থ ধারা 4 এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক;

(গ) ‘‘হিন্দু বিবাহ’’ অর্থ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সম্পন্ন ও হিন্দু শাস্ত্র মোতাবেক প্রচলিত প্রথা ও রীতি অনুযায়ী অনুমোদিত বিবাহ;

(ঘ) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(ঙ) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(চ) ‘‘জেলা রেজিস্ট্রার’’ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত রেজিস্ট্রার বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।


 

3। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন।–(1) অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে।

(2) উপ-ধারা (1) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন হিন্দু বিবাহ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হিইলেও উহার কারণে কোন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহের বৈধতা ক্ষুন্ন হইবে না।

4। বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ ।-(1) এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তদকর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশনবিহির্ভুত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিবে।

(2) উপ-ধারা (1) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে অভিহিত হইবেন।

(3) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

5। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্র বিধি-নিষেধ। -অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, 21 (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা 18 (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।

6। বিবাহ নিবন্ধিকরণ পদ্ধতি।–(1) হিন্দু ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর উক্ত বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে, বিবাহের যে কোন পক্ষের নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদনের প্রেক্ষিতে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক, নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।

(2) এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে হিন্দু ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী সম্পন্নকৃত কোন বিবাহের যে কোন পক্ষের, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আইনের বিধান অনুসরণক্রমে নিবন্ধন করা যাইবে।

7। বিবাহ নিবন্ধন ফিস, ইত্যাদি।– সরকার, সময় সময়, বিধি দ্বারা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ফিস, নিবন্ধন বহি প্রদর্শন ফিস এবং প্রতিলিপি সরবরাহের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ফিস নির্ধারণ করিতে পারিবে।

8। বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকুরী নহে।–ধারা 4 এর অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তি বা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকুরি হিসাবে গণ্য হইবে না।

9। সবেতনে চাকরি গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ।– কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহাকে যে, এলাকার জন্য নিয়োগ প্রদান করা হইয়াছে সেই এলাকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোথাও সবেতনে চাকরি করিতে পারিবে না।

10। নিবন্ধন বহিসমূহ পরিদর্শন।– কোন ব্যক্তি নির্ধারিত ফিস পরিশোধ সাপেক্ষে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বহি পরিদর্শন বা উহাতে অন্তর্ভূক্ত কোন বিবাহ নিবন্ধনের প্রতিলিপি সংগ্রহ করিতে পারিবেন।

11। নিবন্ধন বহি সংরক্ষণ, ইত্যাদি। (1) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নির্ধারিত ফরম ও পদ্ধতিতে নিবন্ধন বহি সংরক্ষণ করিবেন।

(2) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক প্রত্যেক বছরের শুরুতে উপধারা (1) এ উল্ল্যেখিত নিবন্ধন বহিতে নতুন ক্রমিক নং উল্লেখপূর্বক নিবন্ধন করিবেন।

(3)প্রেত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তদকর্তৃক রক্ষিত নিবন্ধন বহি লেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করিবেন এবং তিনি স্বীয় এলাকা ত্যাগ করিলে, তাহার নিয়োগ বাতিল বা স্থগিত করা হইলে তাৎক্ষনিকভাবে উক্ত নিবন্ধন বহি ও অন্যান্য কাগজপত্র, নিরাপত্তা হেফাজতের জন্য, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিষ্ট্রারের নিকট জমা প্রদান করিবনে।

12। বিবাহ নিবন্ধনের প্রতিলিপি প্রদান।–(1) এই আইনের অধীনে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিাবাহরে পক্ষদ্বয় বা তদকর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি কর্তৃক আবেদনের প্রেক্ষিতে হন্দিু বিবাহ নিবন্ধক বিধি দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত বিবাহ নিবন্ধনের প্রতিলিপি সরবরাহ করিবনে।

(2) উপ-ধারা (1) এর অধীন বিবাহ নিবন্ধনের প্রতিলিপি গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফিস প্রদেয় হইবে।

13। তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রন, ইত্যাদি।– (1) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিস্ট জেলার রেজিষ্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রনে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্দিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন।

(2) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহা-পরিদর্শক, নিবন্ধনের সাধারণ তত্ত্ববধানের ক্ষমতা থাকিবে।

(3) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদশন করিতে পারিবেন।

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘মহাপরিদর্শক’’ Registration act 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।

14। নিয়োগ স্থগিত বা বাতিলকরণ।– সরকার নিকট যদি সন্তেষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে সরকার লিখিত আদেশ দ্ধারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে

তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না।

15। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।–এই আইনের উদ্দেশ্য পুরণকল্পে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রনয়ন করিতে পারিবে।

ভীম চরণ রায়

অতিরিক্ত সচিব ( এইচআর )


 


 

বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা


এডমিন লগইন
প্রকল্প অর্থ সহযোগীতায়
প্রকল্প কুশীলব
প্রকল্পের পথিকৃৎ:
জনাব এ বি এম আজাদ
যুগ্ম সচিব ও সাবেক জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম।

প্রধান নির্দেশক:
জনাব আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান
জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম

প্রকল্প পরিচালক।

পরিকল্পনা:
জনাব মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী
সহকারী কমিশনার, কুড়িগ্রাম

সমন্বয়কারী:
মিজ্ সালমা আক্তার
সহকারী কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কুড়িগ্রাম

সহকারী প্রকল্প পরিচালক

কারিগরি সহযোগিতা

উইনটেল লিমিটেড
সামাজিক যোগাযোগ
2 4 5 6 6
Powered by Wintel Ltd.